সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে।
শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে গ্রেফতারের পরপরই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ৭৪ বছর বয়সী এই নেতাকে কাঠমান্ডুর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থকরা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে নেপালজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়।
মূলত দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেই সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ আন্দোলনকারী।
বিক্ষোভ দমনে সরকারি ভূমিকা তদন্তে গঠিত একটি প্যানেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে বিচারের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই শনিবার ওলির পাশাপাশি রমেশ লেখককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ওলির বয়স এবং তার দু’বার কিডনি প্রতিস্থাপনের ইতিহাস বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নেপালে এই নাটকীয় গ্রেফতারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র একদিন আগে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বালেন শাহ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হননি। তবে ওলি এর আগেই তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদনকে 'চরিত্রহনন এবং ঘৃণার রাজনীতি' বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
No comments:
Post a Comment